জাতীয় ভোটার দিবস - সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন

Image

জাতীয় ভোটার দিবস - সম্পর্কে প্রতিটি নাগরিকের সঠিকভাবে জানা উচিত কারণ ভোট প্রতিটি নাগরিকের জাতীয় অধিকার। একটি স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে প্রাপ্তবয়স্ক একজন ব্যক্তি অর্থাৎ ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে একজন ব্যক্তি তার নিজস্ব ভোট আছে তার পছন্দ অনুযায়ী ব্যক্তি কে দিতে পারবে। প্রতিটি স্বাধীন নাগরিকের একটি স্লোগান -

"আমার ভোট আমি দিবো 

যাকে খুশি তাকে দিব"।

জাতীয় ভোটার দিবস

বাংলাদেশে পালিত জাতীয় দিবস সমূহের মধ্যে জাতীয় ভোটার দিবস হল একটি অন্যতম দিবস। প্রতিবছর দুই ২ মার্চ এই জাতীয় ভোটার দিবস পালন করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃ ক ভোটাধিকার সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে ২০১৮ সাল থেকে মার্চ মাসের ২ তারিখে এই দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে। অর্থাৎ প্রতিবছর ২রা মার্চ জাতীয় ভোটার দিবস হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে।

ভোট কি

আমরা সবাই ভোট প্রদান করি। নিজের পছন্দ মত ব্যক্তিকে নিজের মূল্যবান ভোট দিয়ে থাকি কিন্তু আমরা অনেকেই জানিনা আসলে ভোট কি এবং আমরা কেন দিয়ে থাকি। ভোট হল জনগণের অধিকার। ভোটের মাধ্যমে নির্বাচনের দ্বারা ক্ষমতার পালাবদলের হাতিয়ার অর্থাৎ একটি স্বাধীন দেশে অনেকগুলো রাজনৈতিক দল থাকে এই রাজনৈতিক দল গুলোকে জনগণ তাদের মূল্যবান ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করেন।

আরো পড়ুনঃ আন্তর্জাতিক যুব দিবস - কবে পালিত হয় জেনে নিন

এবং তারা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। এরপর যখন তাদের  নির্বাচিত সময় শেষ হয় তখন জনগণ আবার ভোটের মাধ্যমে তাদের পছন্দমত একজন ব্যক্তিকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করেন। তখন তারা সরকার গঠন করেন এবং দেশ পরিচালনা করেন।

জাতীয় ভোটার দিবসের ইতিহাস

২০১৮ সাল থেকে পয়লা ১লা মার্চ জাতীয় ভোটার দিবস হিসেবে পালন করা হয়। প্রতিটি দিবস পালনের পিছনে একটি ইতিহাস থাকে তেমনি জাতীয় ভোটার দিবস পালনের পেছনেও একটি ইতিহাস রয়েছে। যেমন ২০১৮ সালের ২ এপ্রিল মন্ত্রী পরিষদে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে জাতীয় ভোটার দিবস হিসেবে পহেলা ১লা মার্চ কে ঘোষণা করা হয় এবং উদযাপনের প্রস্তাব পেশ করা হয়।

পরবর্তীতে পহেলা মার্চ জাতীয় বীমা দিবস হিসেবে ঘোষিত হওয়ার পরে ২০২০ সালের ১৫ জানুয়ারি একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং এই বৈঠকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় যে, পহেলা ১লা মার্চ যেহেতু জাতীয় বীমা দিবস তাই প্রতি বছর ২ মার্চ জাতীয় ভোটার দিবস হিসেবে পালন করা হবে এবং এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ সাজ্জাদুল হাসান, উপসচিব, জাতীয় নির্বাচন কমিশন।

আরো পড়ুনঃ  বিশ্ব ইচ্ছা পূরণ দিবস - কেন পালন করা হয় জেনে নিন

এবং এই বৈঠকেই  মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের ২০১৮ সালের ৮ এপ্রিল তারিখে পহেলা ১লা মার্চ জাতীয় ভোটার দিবস সম্পর্কে যে পরিপত্রটি করা হয়েছিল তা বাতিল করা হয় এরপর থেকে অর্থাৎ ২০২০ সালের ১৫ জানুয়ারি বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবছর জাতীয় ভোটার দিবস হিসেবে দোসরা ২রা মার্চ পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এবং এই দিন জাতীয় ভোটার দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়ে থাকে এবং এই দিবসকে "খ" শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

জাতীয় ভোটার দিবসের গুরুত্ব

"তোমার আমার বাংলাদেশে, ভোট দিব মিলেমিশে"।

প্রতিটি জাতীয় দিবসের যেমন গুরুত্ব রয়েছে তেমনি রয়েছে জাতীয় ভোটার দিবসের গুরুত্ব। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জাতীয় ভোটার দিবস হল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিবস যেখানে জনগণ তাদের স্বাধীন মতামত প্রকাশ করতে পারে অর্থাৎ তারা তাদের নিজের পছন্দের ব্যক্তিকে ভোট প্রদান করতে পারে। কারণ ভোট হলো জনগণের অধিকার। আর নির্বাচনের দ্বারা ক্ষমতা পালা বদলের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হল এই ভোট।

আরো পড়ুনঃ  বিশ্ব দুগ্ধ দিবস - সম্পর্কে জেনে নিন

জনগণকে ভোট সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষ্যে সারাদেশে ২ মার্চ জাতীয় ভোটার দিবস পালন করা হয়। আর এই কার্যক্রমের সঙ্গে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার বিষয়টিও সম্পৃক্ত করা হয়। আর প্রতি বছর ২ মার্চ যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হয় এর মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীরা ভোটাধিকার পেয়ে থাকে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে ভোটাধিকার যোগ্য নাগরিকের অংশগ্রহণ করা অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তাই ভোটার হওয়ার অধিকার একটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের সার্বজনীন অধিকার।

আরো পড়ুনঃ  পোলিও মুক্ত বাংলাদেশ রচনা - সম্পর্কে জেনে নিন

একটি নাগরিকের জন্য ভোটের দিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন কারণ এই দিনেই সে তার পছন্দমত ব্যক্তিকে নির্বাচিত করতে পারে। সরকার গঠনের জন্য জাতীয় পরিচয় পত্র বা ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার যাবতীয় সেবা বাংলাদেশ জাতীয় নির্বাচন কমিশন প্রদান করে থাকে এবং তারা মানুষের দৌড়গোড়ায় পৌঁছে তাদের ভোটের তথ্য হালনাগাদ করে এবং তাদের ভোটদানের অধিকার নিশ্চিত করে। নির্বাচন কমিশনের এই সেবা নন স্টপ ভাবে হয়ে থাকে।

জাতীয় ভোটার দিবস ২০২৫

"তোমার আমার বাংলাদেশে, ভোট দিব মিলেমিশে"। এই স্লোগানকে সামনে রেখে মোঃ শরিফুল আলম স্বাক্ষরিত পেশ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে আগামী দুই ২ মার্চ জাতীয় ভোটার দিবস পালন করা হবে এবং গত ২০ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন জানায় এবারের জাতীয় ভোটার দিবসে সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডঃ মোহাম্মদ ইউনুস এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের নিয়ে এই দিবস উদযাপন করা হবে।

বিভিন্ন দেশের ভোটার দিবস

বাংলাদেশ - ২ রা মার্চ

পাকিস্তান - ৭ ডিসেম্বর

শ্রীলংকা - ১ জুন

ভুটান - ১৫ সেপ্টেম্বর

নেপাল - ১৯ ফেব্রুয়ারি

আফগানিস্তান - ২৭ সেপ্টেম্বর।

ভোটার দিবসের স্লোগান

"তোমার আমার বাংলাদেশে, ভোট দিব মিলেমিশে"- ২০২৫

সঠিক তথ্যে ভোটার হব, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলবো - ২০২৪

ভোটার হব নিয়ম মেনে, ভোট দেব যোগ্য জনে - ২০২৩

ভোটার হব, ভোট দেব - ২০১৯

শেষ কথা

ভোট, প্রতিটি স্বাধীন দেশের একটি গণতান্ত্রিক অধিকার হলো ভোট প্রদান করা। আর প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রয়েছে তাদের পছন্দমত ব্যক্তিকে ভোট প্রদান করা। আসুন, আমরা সবাই মিলে নিজের পছন্দমত ব্যক্তিকে ভোট দেই এবং শোক সমৃদ্ধিতে আমাদের এই দেশটাকে ভরিয়ে তুলি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url